জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রদেশ। এ লক্ষ্যে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দ্রুত চালু, কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং ঢাকা–কুনমিং সরাসরি আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কুনমিংয়ে ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক লি চাওওয়েইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহানাজ রানু। বৈঠকে দুই পক্ষের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন দ্রুত চালুর পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপন এবং চীনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পের প্রশংসা করে চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোকে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন ইউনান প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক।

কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানির প্রটোকল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পেয়ারা ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্য বাজার তৈরির আহ্বান জানান শাহানাজ রানু।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে ইউনানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেন লি চাওওয়েই।

দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সহজ করতে ঢাকা–কুনমিং রুটে আরও সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং সংযোগ করিডোর প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ও তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনীতে ইউনানের আরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।