জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ—কেআইবি সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশে খাদ্য পুষ্টিকরণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। সেমিনারটির আয়োজন করে ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সর্বজনীন মানবাধিকার। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনস্বাস্থ্যের উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও পুষ্টিঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে।

এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পুষ্টিকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন—বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ—টিসিবিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হলে কাজের সুবিধা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ভাই থাপা। ডা. রুদাবা খন্দকারের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. তাহমিদ আহমেদ।

আলোচনায় খাদ্য পুষ্টিকরণ কার্যক্রম কার্যকর করতে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

তাঁরা বলেন, পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।