কৃষি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পরিবেশ কফি উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।

বাংলাদেশে কফি চাষের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরোনো। ষাটের দশকের শুরুতে আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করা কফির চারা পাহাড়ি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা হয়েছিল। তবে সে সময় কফি বিক্রি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক কৃষক পরবর্তীতে গাছ কেটে ফেলেন।

বর্তমানে সেই সম্ভাবনাকেই নতুনভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। কফি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পাহাড়ি এলাকায় কফির বিভিন্ন জাত ও বংশগত উপাদান নিয়ে গবেষণা করছে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও রাঙামাটির রাইখালী এলাকায় কফি নিয়ে গবেষণার তথ্যও রয়েছে।

বিশ্বে আরবিকা ও রোবাস্তা এই দুই ধরনের কফি সবচেয়ে পরিচিত। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে কোন জাত বেশি মানানসই, কোন জাত ভালো ফলন দিতে পারে এবং রোগবালাই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে।

ইতোমধ্যে দেশে রোবাস্তা জাতের ‘বারি কফি-১’ অবমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবিকা জাত নিয়েও গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

তবে পাহাড়ে কফি চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কফি গাছের জন্য প্রয়োজনীয় ছায়া, পানি, সার, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে ফল সংগ্রহের পাশাপাশি পাহাড়ি ঢাল ও মাটিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিতে মাটিক্ষয়, মাটির অম্লতা এবং সেচের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করে টেকসই চাষব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অন্যদিকে দেশের কফির বাজার এখনো অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশে কফির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ে উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন আয়ের সুযোগ।

তবে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। ভালো মানের চারা, কৃষকের ন্যায্য দাম, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি কৃষিতে কফি হয়ে উঠতে পারে নতুন একটি সম্ভাবনাময় ফসল।