কৃষি কবর ডেস্ক: ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হর্টিকালচার সেন্টারটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকট, জলাবদ্ধতা, মাটির ঘাটতি ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যার কারণে কেন্দ্রটিতে চারা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় থেকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হর্টিকালচার সেন্টারটিতে ১৬ জন শ্রমিক পদায়নের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। এছাড়া চারজন গার্ডের জায়গায় তিনটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। ফলে এই সীমিত জনবল দিয়ে সেন্টারের বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জনবল সংকটের পাশাপাশি কেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর অবস্থাও বেহাল। সেন্টারের ভেতরের সড়কের দুরবস্থা এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। নিচু ভিটেতে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকায় মাটিতে ‘কচরা’ ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাটির গুণাগুণ। ফলে বিভিন্ন ধরনের মানসম্মত চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে অনেক সময় উৎপাদিত চারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক নয়ন মনি সূত্রধর জানান, "তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে বাইরের থেকে বেশি দামে দৈনিক হাজিরায় শ্রমিক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। এতে সেন্টারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।" তিনি আরও বলেন, "শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি মাটি সংকটও একটি বড় সমস্যা। সেন্টারের কিছু বিটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে মাটিতে কচরা ধরে যায়, যা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সময়ে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় শেডসহ অবকাঠামো নির্মাণ করা গেলে কেন্দ্রটি থেকে চারা উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। এতে ফেনী অঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।