জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন কৃষক ভাইয়ের বসতবাড়ির মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ ১৫ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, মূল্যবান আসবাবপত্র ও ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পাঁচটি ছাগলও পুড়ে মারা গেছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন পরিবারের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেন।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, রাত ১২টার দিকে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের গুলিয়া কৃষ্ণপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত নুরুল ইসলামের তিন ছেলে মাহফুজুল হোসেন, রেজাউল ও শহিদুল পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। রাতে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে ঘুম ভাঙলে তাঁরা মাহফুজুলের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন।

মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে নগদ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, ডাল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, খাট, পোশাক, বিদেশি কম্বলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি ছাগলও আগুনে মারা যায়।

এ ঘটনায় মাহফুজুল হোসেনের মুখমণ্ডল ও দুই হাত দগ্ধ হয়েছে। তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে যান নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থসহায়তা, শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করেন।

আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।