কৃষি খবর ডেস্ক: সাত বিঘা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেন নিজাম উদ্দিন। মালচিং পদ্ধতির এ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন ছয় লাখ টাকা। ক্ষেতে এখনো রয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার টমেটো।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তিলকপুর গ্রামের এই কৃষকের মতো উপজেলার অনেকেই এখন এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।
কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেক কৃষক এরই মধ্যে বিনিয়োগের টাকা তুলে লাভের মুখ দেখছেন। মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের কৃষক সাদেক হোসেন জানান, ছয় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা। গতবছর তিন বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন।
এসব কৃষকের সম্মিলিত আবাদ প্রায় ২০ বিঘা জমিতে। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই এলাকার আরো বেশ কয়েকজন কৃষক টমেটো চাষে যুক্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের এ আগ্রহের পেছনে রয়েছে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার ও আগাম ফসল বাজারজাত করার সুযোগ। এ পদ্ধতিতে চারা রোপণ করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও পরিচর্যা সহজ হয়।
বর্তমানে প্রতিকেজি টমেটোর পাইকারি দর ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগাম টমেটো চাষে কৃষক তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ার সুযোগ পান। মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছার উপদ্রব কমে। ফলে গাছের গোড়া ও শিকড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে এ পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো ও লাভবান করতে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।'





