কৃষি খবর ডেস্ক: কোনো গবেষণাগার নেই, নেই উন্নত যন্ত্রপাতি কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি। তবু নিজের মেধা, কৌতূহল ও দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে চলেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং। ২১ বছরের সাধনায় মাত্র ১২ কাঠা জমিতে ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট তৈরি করে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ২৫টি ধানের জাত। তবে দীর্ঘদিনের এই সাফল্যের পরও মেলেনি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
সেন্টু হাজং সংকরায়ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করেছেন সেন্টু শাইল, সেন্টু পাইজাম, চিনি শাইল ও তুলশিমালার মতো ধানের জাত। স্থানীয় কৃষকেরা তার উদ্ভাবিত ধান চাষ করে ভালো ফলন ও সুস্বাদু চালের সুফল পাচ্ছেন। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
শুধু নতুন জাত উদ্ভাবনই নয়, হারিয়ে যেতে বসা দেশি ধানের জাত সংরক্ষণেও কাজ করছেন এই কৃষক। জলবায়ু পরিবর্তন ও আধুনিক কৃষির প্রভাবে যখন অনেক দেশি ধানের জাত বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, তখন নিজের উদ্যোগে এসব ধানের বৈচিত্র্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
তবে তার উদ্ভাবিত জাতগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন পায়নি। ফলে বীজ বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় তার উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কৃষিসংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সেন্টু হাজংয়ের এই কাজ। তার উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রত্যয়নের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্ট কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে তার উদ্ভাবিত জাতগুলোর মূল্যায়ন এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সেন্টু চন্দ্র হাজংয়ের দীর্ঘদিনের সাধনা বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও দেশি ধানের জাত সংরক্ষণে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।





