কৃষি খবর ডেস্ক: রাজধানীতে এখন এক কেজি মাল্টার দাম ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা একই সময়ে ভারতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পাকিস্তানে ৮০-১৩০ টাকা, নেপালে ১৩০-১৮০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ৩০০-৪০০ টাকা। অর্থাৎ, বাংলাদেশে এ ফলের দাম পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে প্রায় সাতগুণ পর্যন্ত বেশি।

শুধু মাল্টা নয়, আপেল, কমলা, আঙ্গুর, খেজুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের ক্ষেত্রে এ দামের চরম তারতম্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে।

এতে বলা হচ্ছে, চড়া শুল্কহার ও বাড়তি দামে শুল্কায়নের পাশাপাশি বিক্রেতাদের অতি মুনাফার চক্র এবং বিলাসবহুল পণ্যের তালিকায় ফলকে যুক্ত করার কারণে দেশে আমদানি করা বিদেশি ফল অস্বাভাবিক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

যার কারণে এসব ফল এখন সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে গেছে। রোগীর পথ্য হিসেবে পরিচিত এসব ফল এখন ভোক্তার ওপর বড় বোঝা।

ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আপেল প্রতি কেজি দেশের বাজারে এখন ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হলেও ভারতে প্রতি কেজির দাম মাত্র ২২০ টাকা। পাকিস্তানে ১৭০ টাকা, নেপালে ২৪০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা। একই চিত্র দেখা গেছে কমলা, আঙ্গুর ও খেজুরের দামের ক্ষেত্রেও।

ব্যবসায়ী ও সরকারি ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য, ফল জরুরি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণে বছরের পর বছর সহায়ক ভূমিকা রাখলেও বছর দুই আগে এটিকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ কারণে আমদানির ওপর আরোপ করা হয় উচ্চকর। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত বুকিং দরের চেয়ে কাস্টমসে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও প্রবিধি বিভাগ থেকে জারি করা একটি সার্কুলারে বিলাসজাতীয় পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয় এসব ফলকে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত ফলের বাজারের সুরক্ষায় শতভাগ মার্জিন সংরক্ষণ করে আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই ফলের দাম বাড়তে থাকে লাগামহীনভাবে।

এসময় ব্যবসায়ীরা বলেন, ফলের সরবরাহ ঘাটতি আছে। এছাড়া উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।