কৃষি খবর ডেস্ক: অনুকূল আবহাওয়া, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আজ সোমবার রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকরা জানান, কম সময়ে ধান ঘরে তোলা, রোগবালাই কম হওয়া ও ভালো ফলনে লাভের মুখ দেখছেন তারা। ধান কাটার পর একই জমিতে রবিশস্য আবাদ করে বাড়তি আয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, আগাম ধান কাটতেছি। এ ধান কাটার পরেই জমিটাতে আলু লাগাবো। আলুর পরে ভুট্টা লাগাবো। আমার এখানে দোন প্রতি (বিঘা) ১২ থেকে ১৫ মণ ফলন হয়েছে। প্রতি মণ ধান ৬২০ টাকা করে বিক্রি করতেছি। মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছি। এ ধান ঘরে তুলে বউ-বাচ্চাসহ সংসার চালাবো। এসব ভাবনায় খুব আনন্দ পাচ্ছি।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান বলেন, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করতে পারেন। এতে তারা লাভবান হন। তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’



