কৃষি খবর ডেস্ক: রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে পুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। ফসল উৎপাদনে লোকসানের আশঙ্কা ও লাভ কম হওয়ায় অনেক কৃষক জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মাছ চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় নতুন নতুন উদ্যোক্তাও এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রাজশাহী অঞ্চল থেকে তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের অন্তত ২৫ থেকে ২৮টি জেলায় যাচ্ছে রাজশাহীর চাষের মাছ। জীবিত অবস্থায় মাছ পরিবহন ও সরবরাহের কারণে এসব মাছের চাহিদাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন বিকেল থেকে ভোররাতের মধ্যে ৫০০টির বেশি ট্রাকে করে তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। প্রতিটি ট্রাকে থাকে কমপক্ষে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ অঞ্চলে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার বেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে।

দুর্গাপুর উপজেলার গোলাম সাকলাইন মাছ চাষে সফলতার অন্যতম উদাহরণ। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে অনার্স পড়ার সময় নিজ এলাকায় মাত্র দুই বিঘা জমির পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। তার পুঁজি ছিল মাত্র ৭ হাজার টাকা। প্রথমবারেই লাভ করেন ৬ হাজার টাকা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

বর্তমানে প্রায় এক হাজার বিঘা জমির পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন গোলাম সাকলাইন। তার মাছের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫২ জনের।

গোলাম সাকলাইন বলেন, ‘কৃষির সঙ্গে মাছ চাষকে আমি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। মাছ চাষ করব বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখন পরিবারের সদস্যরা কেউ এই পেশায় আসতে দিতে চাননি। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মাছ চাষ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার পুকুরের আয়তন প্রায় এক হাজার বিঘা। প্রতিদিন আমার খামার থেকে প্রায় ২০ ট্রাক মাছ রাজধানী ঢাকায় যায়।’

রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আগে রাজশাহী অঞ্চলে মূলত মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ হতো। এখন বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুকুরে প্রধান মাছ হিসেবে রুই চাষের পাশাপাশি সিলভার কার্প, কাতলা ও দেশি ছোট মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে পুকুরের ভারসাম্য বজায় থাকে। বড় মাছের পাশাপাশি পাবদা, শিং, কই ও মাগুরের উৎপাদনও হচ্ছে। এসব মাছ রাজশাহীর বাইরেও বড় বাজার তৈরি করেছে।’