কৃষি খবর ডেস্ক: দেশের নদীবেষ্টিত দ্বীপ-চরে বসবাসরতদের জীবিকা ও সম্পদ সঞ্চয়ের বড় মাধ্যম ‘পশুপালন’। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পারিবারিক গোয়ালে দেখা মেলে-গরু, মহিষ, ছাগল কিংবা ভেড়ার বিচরণ। পারিবারিক পছন্দ, পালনের অভিজ্ঞতা, খাবারের জোগান ও প্রাকৃতিক সুযোগের হিসাব মিললেই নির্ধারিত হয়-কোন খামারি কী পশু পালন করবেন।
তবে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের খোলা পরিবেশ, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবস্থা ও পরিচর্যার খরচ কম হওয়ায় ভেড়া পালনকে বেছে নিচ্ছেন চরাঞ্চলের খামারিরা। কিন্তু যে চরাঞ্চল ভেড়া পালনের জন্য সম্ভাবনাময়, সেই চরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হয়ে ওঠে দুর্ভোগের কারণ। দুর্যোগে পশু মারা গেলে কিংবা কম দামে বিক্রি করতে হলে থমকে যায় চরবাসীর অর্থনৈতিক গতি।
দেশের নদীবেষ্টিত দ্বীপ-চরে বসবাসরতদের জীবিকা ও সম্পদ সঞ্চয়ের বড় মাধ্যম ‘পশুপালন’। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পারিবারিক গোয়ালে দেখা মেলে-গরু, মহিষ, ছাগল কিংবা ভেড়ার বিচরণ। পারিবারিক পছন্দ, পালনের অভিজ্ঞতা, খাবারের জোগান ও প্রাকৃতিক সুযোগের হিসাব মিললেই নির্ধারিত হয়-কোন খামারি কী পশু পালন করবেন।
তবে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের খোলা পরিবেশ, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবস্থা ও পরিচর্যার খরচ কম হওয়ায় ভেড়া পালনকে বেছে নিচ্ছেন চরাঞ্চলের খামারিরা। কিন্তু যে চরাঞ্চল ভেড়া পালনের জন্য সম্ভাবনাময়, সেই চরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হয়ে ওঠে দুর্ভোগের কারণ। দুর্যোগে পশু মারা গেলে কিংবা কম দামে বিক্রি করতে হলে থমকে যায় চরবাসীর অর্থনৈতিক গতি।
উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ-চরগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেক খামারি খোলা মাঠ ও চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ঘাসের ওপর নির্ভর করে ভেড়া পালন করছেন। নদীর তীর ও বিস্তীর্ণ জমিতে এসব পশু খাবার সংগ্রহ করে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কেনা খাবার সরবরাহের প্রয়োজন হয় না। পারিবারিক শ্রম ও স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য খাদ্যের ওপর নির্ভর করেই চলে ভেড়া পালন। তুলনামূলক কম খরচে ভেড়া পালন সম্ভব হওয়ায় এটি দরিদ্র পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে।
চরের বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, ‘অনেক চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত উঁচু জমি, পশুর জন্য উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা দুর্যোগের সময় দ্রুত পশু সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা সীমিত। ফলে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পরও সব পশুকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয় না। আবার পশু সরিয়ে নেওয়ার জন্য নৌযান, শ্রমিক ও অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব ব্যবস্থা করতে না পারলে পশুপালকদের চোখের সামনে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়ে।’
এই চরের আরেক খামারি ফরিদ মিয়া বলেন, ‘দুর্যোগের পর সংকট আরও দীর্ঘ হয়। চর ডুবে গেলে বা ঘাসের মাঠ নষ্ট হলে পশুর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লে চিকিৎসাসেবা ও পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, সংসারের খরচ চালাতে জরুরি অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে অনেকে বাধ্য হয়ে পশু বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একই সময়ে অনেক পশুপালক বিক্রি করতে চাইলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আয় ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সক্ষমতা।’
আবার অনেকের কাছে ভেড়ার মাংস সুস্বাদু হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেন খামারিরা। তবে অঞ্চল, মাংসের ধরন, সরবরাহ, চাহিদা ও বিক্রয়ব্যবস্থার ওপর দাম নির্ভর করে।
ঢালচরের খামারি আব্দুল হালিম বলেন, ‘সারাবছর মাঠে চরিয়ে ভেড়া বড় করি। ভাবি-ভালো দাম পাব। কিন্তু হাটে এসে দেখি, অনেক ক্রেতাই ভেড়ার দাম খুব কম বলেন। অনেকে এমন দাম বলেন, মনে হয় এটা খাওয়ার যোগ্য পশুই না।’
ঢাকার মতো শহরে কিছু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার এখন ভেড়ার মাংসের প্রতি আগ্রহ দেখালেও তা এখনো সীমিত। এর অন্যতম কারণ, ভেড়ার মাংস সম্পর্কে মানুষের পরিচিতি কম। পাশাপাশি ভেড়ার মাংস রান্না ও খাওয়ার অভ্যাসও তেমন গড়ে ওঠেনি। অনেকের ধারণা, ভেড়ার মাংসে গন্ধ বেশি।
যদিও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেকাংশে পালনপদ্ধতি ও রান্নার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও করণীয়ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁনের মতে, বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণে ভেড়া পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। তুলনামূলক কম খাদ্যে টিকে থাকা এবং উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণের উপযোগিতা ভেড়া পালনে বাড়তি সুবিধা দেয়।





