কৃষি খবর ডেস্ক: পিরোজপুরের নদ নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আশানুরূপ মাছ না পেয়ে হতাশা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন জেলার কয়েক হাজার জেলে। জেলার অন্যতম বড় নদী সন্ধ্যা, বলেশ্বর, কালিগংগা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে পরিবার নিয়ে বিপাকে জেলেরা।

এদিকে জেলেরা বলছে নিষেধাজ্ঞায় সরকারি চাল ২৫ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও জেলেরা পেয়েছে ১৮ থেকে ২২ কেজি।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পিরোজপুরের নদ নদীতে মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট, মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা, তুষখালী, বড় মাছুয়া সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা নিয়ে প্রত্যাশিত ইলিশের আশায় জাল ফেলেছে নদীতে। তবে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন জেলেরা। আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলার কয়েক হাজার ইলিশ মাছ ধরা জেলেরা।

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমিতপুর গ্রামের জেলে পল্লিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে নদীতে জাল ফেলে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কয়েকজন জেলে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে কোনো মাছ নেই এবং দু-একটা মাছ পাওয়া গেলেও আকারে খুবই ছোট। এছাড়াও ইলিশ ছাড়া অন্যান্য মাছ ও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলেরা বলছে, অবরোধে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে। অবরোধ শেষ হলে এ কষ্ট কেটে যাবে মনে করেছিলাম কিন্তু মাছ না পেয়ে দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গেছে।জেলেদের মধ্যে কয়েকজন বলছে, সরকার থেকে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ১৮ থেকে ২২ কেজির মতন চাল পেয়েছে।

জেলে সুদেব বেপারী বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গেছিলাম কিন্তু তেল খরচের টাকাই উঠে নাই। নদীতে কোনো মাছ নেই। সমিতি থেকে কিস্তি তুলে সংসার চালিয়েছি কিন্তু কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করবো আল্লাহই ভাল জানে। জেলেদের প্রতি সরকারের নজর দেওয়া উচিত। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নেট বাধা নিষিদ্ধ করা দরকার। এটা নিষিদ্ধ করতে পারলেই মাছের উৎপাদন আশানুরূপ বৃদ্ধি পাবে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ‘২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর পরই জেলার ২০ হাজার ৯৪৫ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে মোট ৫০৩ টন চাল দেওয়া হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ইলিশ মাছ একটি সামুদ্রিক মাছ এবং দ্রুতগামী মাছ। অবরোধ শেষ হলেও ইলিশ মাছ বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী গুলো থেকে উজানের দিকে যাচ্ছে। তবে কিছুদিন গেলে জেলেরা আশানুরূপ মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’