কৃষি খবর ডেস্ক: চট্টগ্রামের পটিয়ার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে ১৫ টন চিনিবোঝাই কাভার্ড ভ্যান উধাও হয় গত মঙ্গলবার রাতে। সেই চিনির ১৩৪ বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে কাভার্ড ভ্যান ও এর চালককে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজার এলাকার কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়। তবে ১৩৪ বস্তায় কী পরিমাণ চিনি উদ্ধার হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়া থানা ও আজিজনগর ফাঁড়ির পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া চিনি উদ্ধার করেছে।
বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, বান্দরবান থেকে কিছু চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চিনি উদ্ধার এবং ছিনতাই ও চোরাই পণ্যের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের জন্য ২৮ টন চিনি নিয়ে যশোর-ট-১১-৪৬৫৭ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার একটি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। বাকি ১৫ টন চিনি নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটির পটিয়ার নাইখাইন এলাকায় ফুলকলি কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই চালানটি উধাও হয়ে যায়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে পটিয়ার মনসা বাদামতলা এলাকা থেকে চালক আলমগীর (৪৫)-কে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন অন্য চালকরা। পরে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চালকের দাবি, তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়েছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হালিমা আকতারের ভাষ্য, ‘বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ওই ব্যক্তি (চালক আলমগীর)-কে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রবেশ করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ডা. হালিমা আরো বলেন, ‘রোগী হালকা কথা বলতে পারলেও তখনও চোখ খুলতে পারছিলেন না। তাকে আরো পর্যেবক্ষণে রাখা প্রয়োজন।’
এদিকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর কর্ণফুলী উপজেলা থেকে কাভার্ড ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে গাড়িতে চিনির কোনো বস্তা পাওয়া যায়নি। এরপর লামায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধারের ঘটনায় চালানটি কিভাবে এবং কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পটিয়ার ফুলকলি কারখানার জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন জানান, তারা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চিনি কিনে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে ১৫ টন চিনি কারখানায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও বুধবার বিকেল পর্যন্ত তা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, চিনি কারখানায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সরবরাহকারীর দায় থাকে। সকালে চিনিসহ কাভার্ড ভ্যান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ টন চিনির মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
ওসি মো. জিয়াউল হক জানান, ঘটনার তদন্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাকি চিনি উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ১৫ টন চিনির চালান থেকে ১৩৪ বস্তা উদ্ধার হলেও পুরো চালানের হিসাব এখনো মেলেনি।



